[ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনতে
গিয়ে যেই চিন্তাটা ক্রেতাদের বেশ ভাবায় সেটা হলো কোন লেন্স কিনবেন – প্রাইম না যুম?
প্রাইম কিনলে কোন প্রাইম? যুম কিনলেই বা কোন যুম? দেখা যায় কোন লেন্স কোন কাজে
লাগে এটা ঠিক ভাবে না জেনেই অধিকাংশ শখের ফটোগ্রাফারগণ তাড়াহুড়া করে ডিএসএলআর
কিনতে যান আর সাথে একটা যুম লেন্স নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনার সময়
আপনার জন্য সঠিক লেন্স নির্বাচনের জন্য এই লেখাটা সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস
করি। আমার এই লেখাটা ফটোগ্রাফির জগতে সদ্য প্রবেশ করা একেবারেই নতুনদের জন্য এবং
সেই কারণে এখানে ব্যবহৃত টার্মগুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করবো।
লেখাটা বেশ বড় এবং ধৈর্য ধরে পড়ার আহ্বান থাকবে পাঠকদের কাছে। লেখাটাকে তিনভাগে
বিভিক্ত করেছি। প্রথম ভাগে লেন্সের প্রকারভেদ, দ্বিতীয় ভাগে কিছু প্রয়োজনীয়
টার্মসের সহজ ব্যাখ্যা, তৃতীয় ভাগে লেন্স পরিচিতি এবং সব শেষে কোন কাজের জন্য কোন
লেন্স তা নিয়ে আলোচনা। আমার এই লেখাটা শুধু APS-C সেন্সরের ক্যামেরা
(ক্রপড সেন্সরের ক্যামেরা অর্থাৎ D3xxx, D5xxx, D7xxx ইত্যাদি সিরিজ) ব্যবহারকারীদের জন্য যারা অল্প দামে ভালো লেন্স চান। ফুল ফ্রেম ইউযারদের মত অ্যাডভান্সড লেভেলের ফটোগ্রাফারদের জন্য এমন কোন লেখা দরকার নেই আমি মনে করি কারণ তারা ক্যামেরা আর লেন্স নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেন। নিজে নিকন ব্যবহারকারী
বলে লেন্সগুলোর আলোচনায় নিকন লেন্স নিয়েই কথা বলবো। তবে ক্যানন ক্যামেরার জন্যেও
কথাগুলো সমানভাবে প্রযোজ্য। যেই লেন্সগুলোর কথা নিচে আলোচনা করা হয়েছে এই
লেন্সগুলো ক্যাননের ভার্শনও আছে।]
(১)
লেন্সের প্রকারভেদ
মোটা দাগে লেন্স
দুই প্রকার – প্রাইম লেন্স এবং
যুম লেন্স।
প্রাইম লেন্স হচ্ছে
সেই লেন্স যেটা দিয়ে আপনি যুম করতে পারবেন না। যুম করা এবং না করার জন্য আপনাকে ক্যামেরা
নিয়ে হেঁটে, আগ-পিছু হয়ে ছবি তুলতে হবে। আমাদের চোখ হচ্ছে একটা প্রাইম লেন্স।
তাহলে প্রশ্ন আসে,
এত টাকা দিয়ে ডিএসএলআর কিনে লাভই কি যদি যুম করে এই লেন্স ছবি তুলতে না পারি?
এর উত্তর হচ্ছে – দাম, ছবির মান,
এবং ওজন। শার্পনেস - ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার (বোকেহ/শ্যালো ডেপথ অফ ফিল্ড) সহ একটা
প্রাইম লেন্স আপনাকে যে পরিমাণ ভালো মানের ছবি দিবে সেটা তার দ্বিগুণ-চারগুন দামের
অনেক যুম লেন্সও দিতে পারবে না। প্রাইম লেন্সের ভিতরের নির্মাণটা যুম লেন্সের
নির্মাণ থেকে বেশ সরল এবং সরল সোজা বলেই এর ছবির মানও ভালো। অধিংশ প্রফেশনাল
ফটোগ্রাফারগণ আলাদা আলদা কাজের জন্য আলাদা আলদা প্রাইম লেন্স ব্যবহার করেন। এমন কি
ডিস্কোভারি বা ন্যাট জিও চ্যানেলে ওয়াইললাইফ ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরাগুলোতে যে বড়
বড় লেন্স দেখেন সেগুলোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাইম লেন্স এবং খুব কম ক্ষেত্রেই যুম
লেন্স। একই কথা স্পোর্টস ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও। অনেক পোরট্রেইট ফটোগ্রাফারদের
প্রথম পছন্দ তো ৮৫মিমি এবং ১০৫মিমি প্রাইম।
যুম লেন্স কী এটা
তাহলে ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন। যুম লেন্স দিয়ে আপনি ছবি যুম ইন/আউট করে তুলতে
পারবেন। ফলে দূরের কোন শট নেয়ার জন্য আপনাকে হেঁটে কাছে গিয়ে আর ছবি তুলতে হবে না।
এক লেন্স ব্যবহার করেই আপনি ছবির দৃষ্টিকোণ এবং কম্পোযিশন খুব সহজে পরিবর্তন করতে
পারবেন। সাংবাদিকদের প্রথম পছন্দ যুম লেন্স। সমস্যা হচ্ছে, কম দামের যুম
লেন্সগুলোর ছবির মান প্রাইম লেন্স থেকে খারাপ। আপনি যদি প্রাইমের সমপর্যায়ের ছবির
মান কোন একটা যুম লেন্স দিয়ে পেতে চান তাহলে আপনাকে এমন যুম লেন্স পছন্দ করতে হবে
যেগুলোর অ্যাপারচার ফিক্সড। আর ফিক্সড অ্যাপারচারের যুম লেন্সের দাম একটু বেশিই।
(অ্যাপারচার, ফোকাল
লেংথ ইত্যাদি টেকনিকাল টার্মগুলোর মানে সহজ ভাষায় দ্বিতীয় পর্বে লেখার চেষ্টা
করেছি।)
(২)
লেন্সে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় টার্মস
এবার একটু লেন্সের এমন
কিছু ব্যাপার নিয়ে কথা বলবো যা আপনার লেন্স নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
প্রথমে ফোকাল লেংথ নিয়ে কথা বলতে হবে।
১। ফোকাল লেংথ
ফোকাল লেংথের জটিল
সংজ্ঞা না জেনে শুধু এতটুকো জানলেই চলবে যে লেন্সের ফোকাল লেংথ মিলিমিটারে (mm) প্রকাশ
করা হয়। এই মিমি. যত বড় হবে ছবি তত যুম করে উঠবে অর্থাৎ দূরের জিনিষ কাছে চলে আসবে
এবং আপনার লেন্স চারদিক থেকে দেখতে পারবে কম। কারণ দূরের জিনিষটা কাছে চলে এসে
আপনার লেন্সের প্রায় সবখানি জায়গা দখল করে নিয়েছে। এর ফলে চারপাশের অনেক কিছুই ছবিতে কাভার হবে না।
উলটোভাবে, এই মিমি. যত ছোট হবে ছবি তত কম যুম করে উঠবে অর্থাৎ দূরের জিনিষ দূরেই
পড়ে থাকবে এবং আপনার লেন্স চারপাশের অনেক কিছুই দেখতে পারবে। কারণ এই মুহূর্তে
দূরের জিনিষটা দূরে সরে গিয়ে সে আপনার লেন্সকে চারপাশের অনেক কিছু দেখার সুযোগ করে
দিয়েছে। ফলে ছবিতে চারপাশের অনেক কিছু উঠে আসবে। এই যে আপনার লেন্স বিভিন্ন ফোকাল
লেংথে কতখানি দেখতে পারছে এটাকে বলা হয় ‘field of view’ যেটা প্রকাশ করা হয় অ্যাঙ্গেল
দিয়ে অর্থাৎ জ্যামেতিক কোনের মাধ্যমে।
উদাহরণস্বরূপ,
নিকনের একটা লেন্সের নাম হচ্ছে AF-S DX NIKKOR 18-140mm f/3.5-5.6G ED VR। এখানে ১৮-১৪০মিম দিয়ে লেন্সের ফোকাল লেংথ বুঝাচ্ছে। ১৪০মিমি হচ্ছে বড়
ফোকাল লেংথ এবং এ দিয়ে ছবি তুললে দূরের জিনিষ কাছে চলে আসবে এবং ছবিতে বিষয়বস্তু
স্থান নিবে কম। অন্যদিকে ১৮মিমি হচ্ছে লেন্সের ছোট ফোকাল লেংথ যা দিয়ে ছবি তুললে
দূরের জিনিষ দূরেই থাকবে এবং ছবিতে চারপাশের অনেক কিছু স্থান পাবে। আরও ভালো ভাবে
বুঝার জন্য নিচের ছবিটি মনোযোগ দিয়ে দেখুনঃ

২০০মিমি ফোকাল
লেংথে ছবি তুললে দূরের বাসা দুটো লেন্সের সব জায়গা দখল করে নিবে এবং এর ফলে
চারপাশের আর কিছুই লেন্সে কাভার হবে না। অন্যদিকে ২৮মিমি ফোকাল লেংথে ছবিটা তুললে
সবকিছু কাভার হবে। কিন্তু তখন আবার বাসা দুটো যুম হবেনা। একটা পেতে গেলে আরেকটা
ছাড়তে হবে, এটাই জগতের নিয়ম।
এই পর্যন্ত পড়ে কোন
কিছু যদি বুঝতে অসুবিধা হয় তবে আমি বলবো আবার শুরু থেকে পড়ুন। বারবার পড়ে
ব্যাপারগুলো সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা নিন। ধারণা পরিষ্কার না হলে নিচের অংশ
পড়বেন না।
------------------------
আপনি যদি লেখার এই
অংশ পড়েন তাহলে ধরে নিচ্ছি ফোকাল লেংথ নিয়ে আপনার মোটামুটি একটা ভালো ধারণা হয়েছে।
সেখত্রে নিচের প্রশ্নগুলো উত্তর দিনঃ
ছোট একটা ঘরের
মধ্যে পরিবারের কজন সদস্যের ছবি তুলতে চান।
১. এমন ক্ষেত্রে ফোকাল
লেংথ বড় ব্যবহার করবেন না ছোট ব্যবহার করবেন?
২. ৩৫মিমি,
১৪০মিমি, ৩০০মিমি – এই তিন ফোকাল লেংথের মধ্যে কোন ফোকাল লেংথে ছবি তুললে
চারপাশের জিনিষ বেশি কাভার হবে?
৩. উপরিউক্ত তিন
ফোকাল লেংথের কোন ফোকাল লেংথ দিয়ে আপনি দূরের ছবি তুলবেন?
------
------
------
উত্তরঃ ছোট ফোকাল
লেংথ, ৩৫মিমি এবং ৩০০মিমি। (কোন একটা উত্তর ভুল হলে আপনার ধারণা পরিষ্কার হয়নি)
---------
২। অ্যাপারচার
অ্যাপারচার মানে
হচ্ছে আপনার লেন্সের ভিতরটা কত বড় হয়ে খুলে। লেন্সের ভিতরটা যত বড় হয়ে খুলবে লেন্স
দিয়ে ক্যামেরার সেন্সরে তত বেশি আলো প্রবেশ করবে। এর ফলে অল্প আলোতে ভালো ছবি তোলা
সম্ভব হয়।
লেন্সের ভিতর বড় করে খোলা মানে বড় অ্যাপারচার আর ছোট করে খোলা মানে ছোট
অ্যাপারচার। অ্যাপারচারের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারের অনেক বড় একটা সম্পর্ক আছে। বাকি
সব কিছু ঠিক থাকলে বড় অ্যাপারচারে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বেশি হবে, ছোট অ্যাপারচারে ব্যাকগ্রাউন্ড
কম ব্লার হবে। আর এই অ্যাপারচার প্রকাশ করা হয় fstops দিয়ে। আমাদের উদাহরণে AF-S DX NIKKOR 18-140mm
f/3.5-5.6G ED VR লেন্সে অ্যাপারচার f/3.5-5.6। অর্থাৎ ১৮মিমিতে ছবি তুললে অ্যাপারচার হবে f/3.5 এবং ১৪০মিমিতে ছবি তুললে অ্যাপারচার হবে f/5.6।
এর অর্থ, যুম ইন এবং আউট করলে এই লেন্সের অ্যাপারচারও বাড়বে কমবে। তবে দামী যুম
লেন্সগুলোতে ফোকাল লেংথ যাই হোক, অ্যাপারচার ফিক্সড থাকে যেটা আমি উপরে উল্লেখ
করেছি। আর প্রাইম লেন্সেও অ্যাপারচার ফিক্সড। তবে এত কিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে মজার যে
ব্যাপারটা সেটা হলো, এই f value যত
ছোট অ্যাপারচার তত বড় এবং f value যত বড় অ্যাপারচার তত ছোট। এর মানেটা হলো, এই লেন্সে f/3.5 হচ্ছে বড় অ্যাপারচার এবং f/5.6 হচ্ছে ছোট
অ্যাপারচার। শুরুরে শুরুতে বেশ কনফিউযিং লাগবে। এভাবে মনে রাখবেন, ছোট সংখ্যা মানে
ব্যাকগ্রাউন্ড কম স্পষ্ট, বড় সংখ্যা মানে ব্যাকগ্রাউন্ড বেশি স্পষ্ট।
[নোটঃ ব্লার শুধু
ব্যাকগ্রাউন্ডই হয়না আর অ্যাপারচার বড় হলেই সবসময় ব্লার হবেনা। কিন্তু এই ব্যাপারে
আর কিছু লেখার প্রয়োজনীয়তা দেখছিনা বলে কিছু বলবো না আর।]
৩। Image Stabilization
যুম লেন্সে ছবি যুম
করে তুলতে গেলে হাতের সামান্যতম কাঁপা কাঁপিতেই ছবিতে মোশন ব্লার চলে আসে। এই সমস্যা
এড়ানোর জন্য লেন্স প্রস্তুতকারকগণ লেন্সে একটা বিশেষ ফিচার দিয়ে যেটা হাতের কাঁপা
কাঁপিতেও ছবিকে স্ট্যাবল করে রাখে। আর এই ফিচারের নাম Image Stabilization। ক্যামেরা ভেদে একে IS, OIS, VR ইত্যাদি নামে
অভিহিত করা হয়। নিকনের লেন্সে এই ফিচারকে বলা হয় VR,
ক্যাননের IS। এটা অন অফ করা যায়। অন থাকার সুবিধা হলো যুম
করে ছবি তুলতে গেলে হাতের কম্পনে ছবিতে তেমন কোন মোশন ব্লার আসবে না। ছোট ফোকাল লেংথের প্রাইম লেন্সে সাধারণত এটা দরকার হয়না।
(৩)
স্বল্প বাজেটের কিছু লেন্সের পরিচয়
প্রাইম লেন্সঃ
১। AF-S DX NIKKOR 35mm f/1.8G
প্রাইমের মধ্যে
আমার প্রথম পছন্দ এই লেন্সটি। এটা দিয়ে গ্রুপ-সিঙ্গেল পোরট্রেইট এবং ক্ষেত্রে
বিশেষে ভালো ল্যান্ডস্কেপ এবং স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও করতে পারবেন। এই লেন্সে এমন একটা ফিল্ড অফ ভিউ পাবেন যেই ভিউটা আমাদের চোখ দিয়ে আমার সাধারণ ভাবে দেখতে পাই। এর অ্যাপারচার f/1.8 যেটা
বেশ বড় অ্যাপারচার এবং এতে বেশ ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাবেন। শার্প্নেস তো আছেই।
লোকাল শপগুলোতে এই লেখার দিন পর্যন্ত এই লেন্সের দাম ১৩ হাজার ৫ শত টাকার মত।
২। AF-S NIKKOR 50mm f/1.8G (G
ভার্শন)
শুধু ভালো সিঙ্গেল
পোরট্রেইট তুলতে চাইলে আমি সাজেস্ট করবো এই লেন্সটি এবং আমি নিজেও এটি খুব ব্যবহার করি।
এই লেন্সের ব্যাকগ্রাউন্ড কম্প্রেশন আগের উল্লেখিত ৩৫মিমি প্রাইম থেকে কিছুটা
সুন্দর যার ফলে ছবি দেখতে তুলনামূলক বেশ কিছুটা ভালো লাগে। তবে স্ট্রিট বা গ্রুপ
ফটোতে তেমন বেশি একটা সুবিধা করতে পারবেন না। লোকাল শপগুলোতে এই লেখার দিন পর্যন্ত
এই লেন্সের দাম ১৪ হাজার টাকার মত।
৩। AF NIKKOR 50mm f/1.8D (D
ভার্শন)
এই লেন্সে অটোফোকাস
নেই। এই ৫০মিমি নিকনের ৭ হাজার এবং তার উপরের সিরিজ অর্থাৎ যেই ক্যামেরাগুলোতে ইন
বিল্ট অটোফোকাস মটর আছে সেগুলোতেই শুধু অটোফোকাস করবে। ৩ হাজার এবং ৫ হাজার
সিরিজে এই লেন্স লাগালে অটোফোকাস কাজ করবে না এবং সেই ক্ষেত্রে ম্যনুয়াল ফোকাস করে
ছবি তুলতে হবে যা আসলে কোন ভাবে রিকোমেন্ড করা যায়না। এর দাম বর্তমানে ৮ হাজার
টাকার মত।
৪। Nikkor AF-S DX Micro 40mm f/2.8G
এটা ম্যাক্রো
ফটোগ্রাফির জন্য বাজেটের মধ্যে বেশ ভালো একটা লেন্স। এর দাম ২২-২৫ হাজার টাকার মত।
যুম লেন্সঃ
৫। AF-S DX NIKKOR 18-140mm f/3.5-5.6G ED VR
নিকনের ডিএক্স
ক্যামেরার জন্য বেস্ট কিট লেন্স এটিই আমার মতে। কিট লেন্স হচ্ছে সেই লেন্স যা
ক্যামেরার বডির সাথে ক্রেতাকে অফার করা হয়। কিট লেন্স এমন ফোকাল লেংথের হয় যা
মোটামুটিই সবই কাভার করতে পারে। ১৮-১৪০ একটা যুম লেন্স হলেও এটা দিয়ে ওয়াইল্ডলাইফ
ফটোগ্রাফি করার মত যুম রেঞ্জ পাওয়া যাবেনা। এটা দিয়ে ল্যান্ডস্কেপ, স্ট্রিট,
সিঙ্গেল, গ্রুপ আর দশ হাত দূরে বসে থাকার চড়ুই পাখির ছবি তোলা সহ মোটামুটি সবই করা
যাবে। অ্যাপারচার f/3.5-5.6
হওয়ায় লো লাইটের জন্য খুব বেশি উপযুক্ত নয়, বিশেষ করে প্রাইমের f/1.8-এর সাথে যদি কম্পেয়ার করা হয়। এই লেন্সের নতুন AF-P ভার্শন বের হয়েছে যেটা আরও বেশি দ্রুত ফোকাস করে এবং ফোকাস করার সময় শব্দ
উৎপাদন করে কম। লোকাল মার্কেটে AF-P ভার্শনটি এসেছে কিনা
একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন। আর না আসলে AF-S ভার্শনটিই কিনতে
পারেন। লোকাল মার্কেটে এর দাম ১৯ হাজার টাকার মত।
৬। AF-P DX NIKKOR 70-300mm f/4.5-6.3G ED VR
এটিই হচ্ছে
সত্যিকারের যুম লেন্স। কম দামে এর চেয়ে ভালো যুম লেন্স অন্য কোন কোম্পানির বানাতে
পেরেছে কিনা আমার জানা নেই। লোকাল মার্কেটে এর দাম ১৪ হাজার টাকার মত। তবে খেয়াল
করার ব্যাপার, কাছাকাছি এমন আরেকটা লেন্স
আছে যেটার নাম AF-P
70-300mm f/4.5-5.6e ED VR (দুই লেন্সের অ্যাপারচারে খেয়াল করুন)। এটা ফুল ফ্রেম ক্যামেরার জন্য
বানানো লেন্স এবং এর দাম লোকাল মার্কেটে বাংলাদেশি টাকা ৫০ হাজার টাকার উপরে আসতে
পারে, এক্সাক্ট দামটা আমার অজানা কারণ লোকাল মার্কেটে আমি দেখিনি এটা। এটি ক্রপড
সেন্সর ক্যামেরাতেও চলবে। দুটো ভার্শনই বানানো হয়েছে শৌখিন ফটোগ্রাফারদের কথা
মাথায় রেখে যারা ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি করতে চান। দিনের আলোতে ছবির মান বেশ ভালো তবে
অ্যাপারচার অনেক ছোট হওয়াতে লো লাইট ফটোগ্রাফির জন্য এই লেন্স একেবারেই উপযুক্ত
নয়। গ্রুপ ফটোর জন্যেও তেমন সুবিধার জিনিষ নয়। আর নিকনের একদম পুরাতন মডেলগুলোতে AF-P ভার্শন
সাপোর্ট করবেও না। কোন কোন ক্যামেরায় AF-P ভার্শনের লেন্স সাপোর্ট করবে না তা জানতে নিকনের এই সাইটে ঢুঁ মারুনঃ
Can I use an AF-P lens with my DSLR camera?
AF-P ভার্শনের লেন্স নিয়ে কেন রকওয়েল সংক্ষেপে তার লেখায় বলেনঃ
Can I use an AF-P lens with my DSLR camera?
AF-P ভার্শনের লেন্স নিয়ে কেন রকওয়েল সংক্ষেপে তার লেখায় বলেনঃ
“It works great on my D3300,
D500 and D810.
Nikon says forget it on any
of the D1, D2, D3 or D4 series, the D800, D700, D610, D600, D300 series, D200,
D100, D90, D80, D70 series, D60, D50, D40 series, D7000, D5100, D5000, D3200,
D3100 or D3000. Nikon
cautions that you need to have the latest firmware installed for it to work on
the D5500, D5300 or D3300. The problem is that the new
AF-P autofocus motor system only works on camera models originally introduced
since about 2013.।”
৭। AF-S DX NIKKOR 55-300mm
f/4.5-5.6G ED VR
তাহলে অবস্থা যদি
এইই দাড়ায় যে আপনার ক্যামেরায় AF-P ভার্শন সাপোর্ট করবেনা তাহলে আপনি কী করবেন? এই লেন্সটি কিনবেন । এটি নতুন-পুরাতন সব
ডিএক্স ক্যামেরায় সাপোর্ট করবে। এর দাম ১৮ হাজার টাকা।
৮। Tamron 17-50mm
f/2.8 VC (Image Stabilization সহ
ভার্শন)
এটা কম দামের শর্ট
রেঞ্জের একটা যুম লেন্স যেটার অ্যাপারচার ফিক্সড। দূরের ছবি ছাড়া প্রায় সব ধরণের ছবিই এটা দিয়ে তোলা
যাবে এবং ছবির মান নিকনের প্রাইমের মত নাহলেও
কাছাকাছিই যায়। অন্তত নিকনের কিট লেন্স
১৮-৫৫মিমি থেকে শতগুণে ভালো ছবি দিবে এই লেন্স। লোকাল মার্কেটে এর দাম ২৭ হাজার টাকার মত। অ্যাপারচার f/2.8 হওয়ার কারণে লেন্স দিয়ে বেশ ভালো পরিমানের আলোই প্রবেশ করে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ ভালোই ব্লার হয়। লো লাইটের জন্য ভালো লেন্স।
৯। SIGMA 17-50 f/2.8 EX DC OS (Image Stabilization সহ ভার্শন)
এটার সব বৈশিষ্ট
উপরের ট্যামরনের লেন্সের মত। তবে অনেক ব্যবহারকারীদের মতে, এই লেন্সের ছবির মান
ট্যামরনের ভার্শনের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে। এটা অবশ্যই একটা সাব্জেক্টিভ ব্যাপার। অনেকের কাছে আবার ট্যামরনের ভার্শনটা ভালো। এর দাম লোকাল মার্কেটে
২৭ হাজার টাকার মত।
১০। SIGMA 18-35 f/1.8 EX DC
এই লেন্সের
ব্যাপারে এক কথায় বলতে গেলে – Boom! ডিএক্স
ক্যামেরার জগতে এই লেন্স একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এটা খুব শার্প একটা
লেন্স, শার্প লাইক অ্যা ব্লেড। ডিএক্স ক্যামেরায় এর চেয়ে কোন শার্প লেন্স হয়না – এমনটাই বলতে শুনেছি
অসংখ্য রিভিউরাদের। এই লেন্সের অ্যাপারচার ফিক্সড এবং ফোকাল লেংথ ১৮-(মাঝে ২৪)-৩৫।
বলতে পারেন তিনটা প্রাইম লেন্স এক সাথে এই লেন্সের মধ্যে দিয়ে দেয়া হয়েছে। ল্যান্ডস্কেপ,
স্ট্রিট, পোরট্রেইট, লো লাইট – সব কিছুর জন্য একটা অল ইন অল
লেন্স এটা। অ্যাপারচার f/1.8 হওয়ার কারণে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার হওয়ার কোয়ালিটি বেশ উঁচু মানের এবং অল্প আলোতে ছবি উঠে ভালো। এক রিভিউতে দেখেছিলাম, এই লেন্সের ৩৫মিমি ফোকাল লেংথে নিকনের প্রাইম
৩৫মিমি লেন্স থেকে ভালো ছবি আসে। আর যেহেতু এতই ভালো, এর দামটাও একটু বেশি – লোকাল মার্কেট্টে
৫২ হাজার টাকার মত। চাঁদের যেমন কলঙ্ক আছে তেমনি এই লেন্সেরও কলঙ্ক আছে। আর সেটি
হচ্ছে এটায় Image
Stabilization নেই।
১১। Tokina 11-16mm f/2.8 AT-X116
Pro DX II
এটা একটা ওয়াইড
অ্যাঙ্গেল লেন্স। আর্কিটেকচারাল এবং ল্যান্ডস্কেপ তোলার জন্য বেশ ভালো একটা লেন্স।
লোকাল মার্কেটের এর দাম ৩৭ হাজার টাকার মত। নিকনের নিজস্ব ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্সগুলোর দাম আরো অনেক
বেশি।
সারাংশ করতে গেলে,
ডেইলি ফটোগ্রাফির
জন্য,
·
Nikkor
18-140mm f/3.5-5.6
·
Sigma/Tamron 17-55mm f/2.8
·
Nikkor
35mm f/1.8
·
Sigma
18-35 f/1.8
পোরট্রেইটের জন্য,
·
Nikkor
50mm f/1.8G (সিঙ্গেল)
·
Nikkor
35mm f/1.8G (গ্রুপ + সিঙ্গেল)
ইভেন্ট, বিয়ে এবং লো লাইটের জন্য,
·
Nikkor
50mm f/1.8G
·
Nikkor
35mm f/1.8G
·
Sigma
18-35 f/1.8
খেলা, সভা এবং
ওয়াইলডলাইফ ফটোগ্রাফির জন্য,
·
Nikkor
Af-P 70-300 f/4.6-6.3G
·
Nikkor
Af-S 55-300mm f/4.5-5.6G
আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের জন্য,
·
Tokina
11-16mm f/2.8
ম্যাক্রো
ফটোগ্রাফির জন্য
Nikkor 40mm f/2.8
ভিডিওর জন্য
ভিডিওর জন্য
Nikkor 35mm f/1.8G
Sigma 18-35 f/1.8
আমার ব্যক্তিগত পছন্দের
সেটঃ
Sigma 18-35 f/1.8 + Nikkor 50mm f/1.8G + Nikkor Af-P 70-300 f/4.6-6.3G
আজ এই পর্যন্তই। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টের ঘরে জিজ্ঞেস করবেন।
লিখাটা পড়ে খুবই ভাল লেগেছে।
ReplyDeletetnx
ReplyDeleteHow to get to the Betway Casino in West Virginia by Bus, Train or
ReplyDeleteDirections to the 정읍 출장마사지 Betway Casino (West Virginia), 4 김해 출장안마 miles (7 km) 춘천 출장마사지 west of Charlotte. Directions 나주 출장마사지 to the Betway Casino (West Virginia), 경기도 출장마사지 4 miles (7 km) west of Charlotte.
প্রফেশনাল ভ্লগিং করার জন্য sony A7c সাথে কোন লেন্স টা ভালো হবে?
ReplyDelete