আমার পুতুল

আমার পুতুল
মানবের ভিড়ে আমি একলা...
Showing posts with label মতামত. Show all posts
Showing posts with label মতামত. Show all posts

Sunday, November 1, 2015

গেলমান এবং শাম্মী হক গং - কুৎসিত মনের বিকৃত কাম

সমকামীদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার এক পর্যায়ে ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শাম্মী হক ডয়চে ভেলেকে বলেন,

“অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, ইসলাম ধর্মে যে বেহেস্তের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে পুণ্যবান মানুষের স্থান হবে, সুখ-সমৃদ্ধে ভরপুর থাকবে, সেখানে ‘গেলমানের' (তরুণ পুরুষ, যারা হবে সুরিক্ষিত মনিমুক্তার মতো সুদর্শন) ব্যবস্থাও রেখেছে৷ তাহলে বেহেস্তে যদি সমকামিতাকে পুণ্যবানের পুরস্কার হিসেব রাখা হয়, সেই একই বিষয় পৃথিবীতে কোনো নিষিদ্ধ এবং ঘৃণ্য বস্তু রূপে দেখছে ধর্ম?” (http://tinyurl.com/nekh8h6)

Saturday, April 18, 2015

কোন সমস্যার প্রকৃত সমাধান বাঙালি কখনোই খুঁজে পায়না

ছিন্ন সুঁতো জোড়া দিয়ে দিয়ে মূল অপরাধীকে ধরার শেষ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল ফেলুদা। নিজের অক্ষমতা দেখে আক্ষেপ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু বলেন, ‘ধ্যাত, কত চেষ্টা করি আমার চিন্তা ঠিক আপনার চিন্তার সাথে এক লাইনে চালাবো...কোথায় যেন গুবলেট হয়ে যায়!’ 

ফেলুদা তখন বলল, ‘গুবলেট নয়, কলিশন; আপনি উলটো পথে চলেন কিনা। আপনি আগে ক্রিমিনাল ঠিক করে নিয়ে তার ঘাড়ে ক্রাইমটা বসানোর চেষ্টা করেন। আর আমি আগে ক্রাইমের ধাঁচটা বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী ক্রিমিনালকে খোঁজার চেষ্টা করি।’ [রয়েল বেঙ্গল রহস্য]


কোন সমস্যার প্রকৃত সমাধান বাঙালি কখনোই খুঁজে পায়না। এর কারন কী জানেন? তাবত সমস্যাকেই তারা ‘জঙ্গিবাদ’এর দৃষ্টিকোণ থেকে হিসেব করতে চায়; সমাধানটাও হয় তাই জোড়াতালি মারা। সব সমস্যার মধ্যেই জামা’আত-শিবির আর হিযবুত-হেফাযত খুঁজে পাওয়াটা বাঙালির আরেকটা একটা সমস্যা হয়ে গিয়েছে। অসুস্থ হয়ে গিয়েছে এই জাতি। 


হাসানুল হক ইনুর একটা কথা মাঝেমধ্যেই আমার খুব মনে পড়ে। দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এক বক্তৃতায় তিনি জঙ্গিবাদকে দায়ী করেছিলেন। সে ভারী বিচিত্র এক ব্যাপার।

--------------
প্রসঙ্গঃ প্রথম আলোর ‘চাপদাড়ি’ (http://goo.gl/mGMvfv) (http://goo.gl/OgZFkx)

Wednesday, April 15, 2015

বিবেক-যুক্তি দিয়ে পশু প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা

Sweden (২), USA (৩), England and Wales (৪), New Zealand (৬), Canada (৭), Australia (৮), Denmark and Finland (১০)

ধম্ম-কম্মের টিকিটিও পাওয়া যায়না ইউরোপ-আমেরিকার এই দেশগুলোতে কিন্তু ব্যভিচার বৈধ। এই তথ্যটা দেয়ার জন্য দেশগুলোর নাম উল্লেখ করার কোন দরকার ছিলনা। আমি অন্য একটা তথ্য সবাইকে জানানোর জন্য এই দেশগুলোর নাম আমি শুরুতে দিয়েছি।
নারীদের ওপর যত কিসিমের সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট হতে পারে – সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, ইভটিযিং, রেইপ ইত্যাদি ইত্যাদি, সেগুলো সংঘটিত হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করে টপ টেইন কান্ট্রির একটা লিস্ট তৈরি করা আছে যেই লিস্টের দশটা দেশের মধ্যে এই আটটা দেশ আছে। ইন্ডিয়া আফ্রিকা তো আছে অবশ্যই, তাদের আর টেনে আনলাম না। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব পরিসংখ্যান জানতে ক্লিক করুনঃ (http://goo.gl/WXb7OM)

এখন ৬৪ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নটা হল, যে দেশগুলোতে ব্যভিচার বৈধ সেই দেশগুলোতে তবে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট আর রেইপের মত ঘটনাগুলো এত বেশি কেন?

একদম আসান উত্তরঃ বেশিরভাগ পুরুষের মধ্যে যেই জানোয়ার প্রবৃত্তি আছে, যে পশু প্রবৃত্তি আছে, সেটা বিবেক বা যুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শুধু মিউচুয়াল সেক্সটাই হত – টিযিং নয়, রেইপ নয়।

পশু প্রবৃত্তির মাত্রাটা কেমন হতে পারে সেটা বোঝার জন্য টিএসসিতে ঘটে যাওয়া গতকালের ঘটনাটা একটু বিশ্লেষণ করি।

যদি ধরা হয় বস্ত্রহরণের ঘটনার পিছনে পুরুষগুলোর যৌনাকাঙ্ক্ষা দায়ী, তবে একবার ভেবে দেখুন পশু প্রবৃত্তির কোন পর্যায়ে যেতে পারলে টিএসসি ভর্তি হাজারো মানুষের সামনে একজন মানুষ স্বীয় যৌনাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে ফেলে। যৌনাকাঙ্ক্ষার মত ব্যাপারটা খুবই স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় বিষয়; সবার সামনে প্রকাশ মত কিছু একেবারেই নয় তা। এমনটাও নয় যে টিএসসিতে তখন শুধু নারীই ছিল, কোন পুরুষ ছিলনা। পুরুষ ছিল, ছিল পুরুষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মী। সবার সামনেই দুষ্কৃতকারীগুলো নারীদের বস্ত্রহরণের ঘটনা ঘটিয়ে বিকৃত সুখ লাভের একটা চেষ্টা নিয়েছে।

আর এমন পৈশাচিক মানুষগুলোকে আপনারা যুক্তি আর বিবেকের দোহাই দিতে চাইছেন?

খোলা গাত্র দেখে লোভাতুর হয় পাশবিক পুরুষ শারীরিক ভাবে দুর্বল নারীর ওপর চড়াও হয়ে নিজের বীরত্ব জাহির করতে চায়। আল্লাহ সুবহান তায়ালা জানেন পুরুষের মধ্যকার এই স্বভাব। তিনি জানতেন কিছু পুরুষ টিএসসিতে এমন কাজ করবে। তিনি জানতেন কিছু পুরুষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করবে আর কিছু পুরুষ নিয়ন্ত্রণ করবেনা। তিনি জানতেন যুক্তি-বিবেকের দোহাই দিয়ে সবাইকেই একই লেভেলে আনা যাবেনা। আর তাই এই সামাজিক আর নৈতিক বিশৃঙ্খলা রোধে তিনি সব রাসূলের মাধ্যমেই একটা Floor  নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেটা মানতে হবে সবাইকেই – নর-নারী, নিয়ন্ত্রণ করতে পারা, নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা - সবাইকে।

Floor মানে কী?

ফিন্যান্সের সাথে পরিচিত সবাই Floor/Cap সম্পর্কে জানেন। ফ্লোর মানে - এর নিচে আর যাওয়া যাবেনা। ক্যাপ মানে - এর ওপরে আর ওঠা যাবেনা।

এবার উদাহরণটা একটু খেয়াল করুণ।

ক্লাসের দুইজন এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টুডেন্ট আর দশজন একেবারে মার্জিনাল কোয়ালিটির স্টুডেন্ট আছে। বিচক্ষণ শিক্ষক যখন প্রশ্ন তৈরি করবেন তখন সেই দশজনের কথা মাথায় রেখেই প্রশ্ন তৈরি করবেন। এমন প্রশ্ন করবেন না যেটার উত্তর শুধু ওই দুজনই করতে পারবে। এমন একটা প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন যেটার উত্তর ওই বারো জনই করতে পারবে।

এর ফলে, প্রশ্নটা হাতে নিয়ে সেই দুইজন এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টুডেন্টকেও একই সহজ প্রশ্নের উত্তর করতে হবে যেগুলোর উত্তর বাকী দশজনই করছে। আমরা অনেক ভাল স্টুডেন্ট – এই দাবীতে কিন্তু তাদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবেনা। এক এবং অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে।

টিএসসি এবং এই জাতীয় ঘটনা থেকে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য Floor হিসেবে আল্লাহ সব নর-নারীর জন্যই পর্দার বিধান দিয়েছিলেন। ফ্লোর হিসেবে অ্যাটলিস্ট পর্দা করতেই হবে, এর নিচে যাওয়া যাবেই না। এর উপরে যদি আরও স্ট্রিক্ট হওয়ার সুযোগ থেকে তবে স্ট্রিক্ট হব। কিন্তু ফ্লোর মেইন্টেইন করেতেই হবে।

আর নারীদের পর্দার এই ফ্লোরটা সবা পুরুষের জন্যই – নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যে পুরুষ তার জন্যেও, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা যেই পুরুষ তার জন্যেও; এক এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র।

“রাস্তাঘাটে পর্দা মেন্টেইন না করে আরও অনেক নারীই তো চলা ফেরা করে। আমাদের বাবা-ভাই তো তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরেনি?”

বস্ত্র হরণের শিকার বোনরা যদি আমার কথাগুলোর প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটা করেই থাকে তবে বলি, কুরানের মাধ্যমে বিধান নাযিল করার সময় ক্লাসের ওই দশজন দুর্বল স্টুডেন্টের কথা মাথায় রেখেই আল্লাহ বিধান নাযিল করেছেন। আপনার বাবা-ভাই ক্লাসের সেই দুইজন এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টুডেন্ট, Congratulations। তাই বলে হুকুম ভিন্ন নয়।

ভেবে দেখুন, আল্লাহ সুবহান ওয়া তায়ালা আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনি জানেন আমাদের জন্য কী ভাল আর কী মন্দ। ভালটা ম্যাক্সিমাইয করার জন্য  আর মন্দটা মিনিমাইয করার জন্য ইসলাম নামক ব্যালেন্সড একটা সিস্টেম তৈরি করে দিয়েছেন। এই ব্যালেন্সড সিস্টেমের বাইরে যাই পড়বে তাই ইম্মব্যালেন্সড এরিয়াতে পড়বে, সমাজে বিশৃঙ্খলা শুরু হবে এবং যেটার একটা নজির মাত্র গতকালকে টিএসসিতে দেখতে পেয়েছেন।

স্বেচ্ছায় ব্যালেন্সড এরিয়া থেকে বের হয়ে গিয়ে কপালে দুর্ভোগ টেনে আনার পর ‘জানোয়ারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে নিজেই নিজের সাথেই উপহাস করলেন। আপনারা কী হন আমার? কিছুই না। একই আদম-হাওয়ার বংশ থেকে আমরা সবাই জন্মিয়েছি বলে বোন ডেকে, আপনাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে পুরো সমস্যাটা আলোচনা করলাম। কালকের ঘটনায় আমি আপনাদের জন্য দুয়া করি। এমন কিছু যেন আর না শুনতে হয় কখনো সেটাই চাই মনে-প্রাণে।

Tuesday, April 14, 2015

অকল্যাণ ধুয়ে-মুছে যাবতীয় কল্যাণের খাজানা নিয়ে আসবে বৈশাখ...

অকল্যাণ ধুয়ে-মুছে যাবতীয় কল্যাণের খাজানা নিয়ে আসবে বৈশাখ - এই আশায় কিন্তু প্রতিটা বছর গান গাওয়া হচ্ছে বটমূলে। এমনটাও কিন্তু নয় যে কল্যাণ কামনা করে বৈশাখকে বরণ করে নিলে সে বছর কালবৈশাখী ঝড় আসেনা, ঝড়ে গাছ-পালা ভেঙ্গে পড়েনা, খড়-ছনের কাঁচা বাড়ী উড়ে যায়না, নৌকা-লঞ্চ ডুবি হয়না, ভূমিকম্প বা ভবন ধস হয়না আর এতে মানুষও মারা যায়না। তাহলে কোন কল্যাণটা চেয়ে প্রতিবছর বৈশাখ পূজা করছেন?
আর সে ভারী এক বিচিত্র ব্যাপার, এত রংঢং করার পরেও ফি বছরই কল্যাণের চেয়ে দেশে অকল্যাণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। দুধ-কলা দিয়ে এই বৈশাখকে বরণ করে নেয়ার যে কী মানেটা আর অবশিষ্ট আছে বাপু সেটা আমার মাথায় আর ধরেনা।

কুরআনুল কারীমে মোট আট জন ফেরেশতার নাম পাওয়া যায় যাদের ওপর বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব অর্পন করা আছে। ২:৯৮-এ মিকাইল ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা আছে এবং তাঁর দায়িত্ব মেঘ, বৃষ্টি আর ঝড়-তুফান নিয়ে। সবকিছু বাদ দিয়ে আজ থেকে শুধু মিকাইল (আঃ) এর পূজা করলেও তিনি আপনার মন মত কম-বেশি বৃষ্টি নিক্ষেপ করার ব্যবস্থা করবেন না বা উত্তরের ঝড় দক্ষিণে সরিয়ে দিবেন না। সারাটা জীবন ধরে মালাকুল মাউতের পূজা করলেও আপনি কোন অবকাশ পাবেন না নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কয়টা দিন বেঁচে থাকার। কিংবা কাল কিয়ামতকে পরশুদিনে সংঘটিত করার জন্যে চৌদ্দ পুরুষ ধরে ইসরাফিল (আঃ) এর পূজা করলেও কিয়ামত কালকেই হবে। কারন সব কিছু আল্লাহ সুবহান ওয়া তায়ালার হাতে; তাদের হাতে নয়।

আর আপনি কিনা কুকুর-শূয়র-হোবাল-মানাতের ছবি নিয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রা বের করে বৈশাখকে বরণ করে নিচ্ছেন এই ভেবে যে নতুন বছর নিয়ে আসবে সৌভাগ্য, ধুয়ে-মুছে সাফ করে দিবে গেল বছরের আনা সব দুর্ভাগ্য।

বেআক্কেল মানুষের দল কোথাকার।

আপনার এমন বিশ্বাস একটা শির্কি বিশ্বাস। সৌভাগ্য আ্যন্ড দুর্ভাগ্য হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ আ্য ফিগার। একমাত্র আল্লাহ সুবহান ওয়া তায়ালাই এটা ডিল করেন। এবং এর জন্য তিনি কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নন; সাল-সংখ্যা, পশু-পাখির মুর্তি বা ছবি, কোন কিছুর উপরেই নন।

স্কলারদের মতে, মানুষের আমাল আর দুয়া - এই দুটো জিনিষের সাথেই ভাগ্যের সম্পর্ক আছে। অন্য কিছুর নয়। কদর কখনই পরিবর্তন হওয়ার নয়। আপনার আমাল আর দুয়ার কারনে যদি সৌভাগ্য এসে থাকে বা দুর্ভাগ্য চলে যায় তবে এই ব্যাপারটাও কদরে লেখা আছে। আপনি দুয়া করবেন, আমাল করবেন সেটা আপনার সৃষ্টির আগেই আল্লাহ্‌ জানতেন। সেই দুয়ায় আপনার চাহাতগুলো কল্যাণকর হলে আল্লাহ্‌ সেগুলো অনেক আগেই আপনার জন্য বরাদ্দ করে রেখেছেন। ব্যাপারগুলো আরও পরিষ্কার ভাবে বুঝতে চাইলে 'ফতওয়া আরকানুল ইসলাম' বইটা আমি রিকমেন্ড করব।

তাওহীদ-শির্ক নিয়ে মুসলিমদের, বিশেষ করে এই দেশের মুসলিমদের জ্ঞানে অনেক ঘাটতি আছে যেটা আমি গত দুদিন লক্ষ্য করেছি। শির্ক বলতে অনেকেই শুধু মনে করেন সংখ্যাগত দিক থেকে আল্লাহকে একাধিক মনে করা। আর কেনই বা এটা মনে করবেনা বলুন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর মানে বাঙালি মুসলিমরা আজ এটাই জানে যে আল্লাহ ছাড়া কোন ‘সৃষ্টিকর্তা’ নেই। ফলে পহেলা বৈশাখ শির্ক – এই অ্যাটেম্পটে দাওয়াত দিয়ে অনেক ভাইকে দেখেছি গত দুইদিনে হাঁপিয়ে উঠতে।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ–এর মানেটা যে কী তা আবু জাহাল-লাহাবেরা বুঝতে পেরেছিল বলেই তারা মুসলিম হতে রাজী হয়নি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ–এর মানেটা যে কী তা আমরা বাঙালিরা জানিনা বলেই কলেমা পড়ে মুসলিম হতে রাজী হয়ে গিয়েছি। বাঙালি যদি জানত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর এক মানে আমাকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করাও ছাড়তে হবে, তাহলে ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশ এই বাংলাদেশ কথাটা আপাতত আমাকে শুনতে হতনা।

Sunday, April 12, 2015

হাশরের ময়দান দরকার

ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে আমি যতটা জানি, একজন ব্যক্তি সত্যিই কি অপরাধী না নির্দোষ তা বোঝা যায় Excecution-এর ঠিক আগের মুহুর্তগুলোতে।

সত্যিকারের অপরাধী হলে সেই ব্যক্তি ভেঙ্গে পড়ে, মুষড়ে পড়ে, মনে মনে একটা গিলটি ফিল করে – কী করলাম এই আমি, কেন করতে গেলাম এই কাজ। খুব বিলাপ করে সে।
 
তবে নির্দোষ হয়ে থাকলে চিত্রটা একেবারে ভিন্ন। খুব শক্ত আর দৃঢ় চেতা থাকে মানুষটা। সে বুঝতেই পারে যে তার কোন দোষ ছিলনা কিন্তু তাকে ফাঁসানো হয়েছে। পরিবারের মায়ায় পড়ে হয়ত কাঁদে, কিন্তু বিলাপ করেনা। থিস্ট হলে সৃষ্টিকর্তার কাছে সে এর বিচার চায়।

Dronachariya (ড্রোনাচার্য) স্যার বলেছেন, বাক্যে ‘কিন্তু’ ব্যবহার নাকি তার কাছে দুনম্বরীর দুনম্বরী মনে হয়। তাই আমি ‘কিন্তু’ যুক্ত যৌগিক বাক্যের (Compound Sentence) ধারের কাছে না গিয়ে একেবারেই বলে ফেলি, একাত্তরের গনহত্যা আর মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনের সুষ্ঠু বিচার আমি চাইই চাই, হু এভার দ্যা ক্রিমিনাল ওয়ায। সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ প্রমাণ হওয়া মাত্রই তাকে ধরে এক্সিকিউট করে দেয়া হোক, নো মার্সি।

কিন্তু একটা সমস্যা হচ্ছে, সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় তা তো এই দেশে নেই রে বাবা।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় জজমিয়া।
র‍্যাবের বদৌলতে পঙ্গুত্ব বরণ করে নেয়া লিমন আরেকটা কলঙ্কজনক অধ্যায়।
চারপাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আর বন্ধুদের উসিলা করে আল্লাহ এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অভিজিতের খুনি ফারাবি নয় বরং অন্য কেউ; ফারাবির মাথায় ফাঁসির পয়গাম ঝুলত নাহলে।
জেএমবিএর সাথে সম্পৃক্ত থাকার মিথ্যে অভিযোগে ডক্টর আসাদুল্লাহ আল গালিবকে গ্রেপ্তার করে হেনস্তা করেছিল তৎকালীন সরকার।
মুফতি জসিমুদ্দীন রহমানিকে আনসার বাংলার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কয়েকবছর ধরে গ্রেপ্তার করে রেখেছে লীগ সরকার।
Section 57 ‘ভঙ্গ’ করার অভিযোগে মাহমুদুর রহমান বিগত কয়েকবছর ধরে কারাগারে।
একই সেকশনের দোহাই দিয়ে আর একটু হলেই ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনামকে ঢুকিয়ে দেয়া হত চৌদ্দশিকের গারদে, হিযবুত তাহরিরের একটা লিফ্লেট ছাপানোর ‘অপরাধে’।

আমার খুব অবাক লাগে একটা ব্যাপার ভাবলে। এই যে ধরুন, চার বছর হয়ে গেল সাগর-রুনীর হত্যাকারীকে(দের) এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলনা। কিন্তু চুয়াল্লিশ বছর আগে কে কী অপরাধ করেছিল তা গুনে গুনে শাস্তি বাবদ ফাঁসি দিয়ে ফেলতে পারছি ঠিকই। পিলখানা ম্যাসাকারের শাস্তি দোষী ব্যক্তিরাই পেয়েছে নাকি উদর পিণ্ডি বুঁদর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে সেটা সবচেয়ে ভাল জানে একমাত্র আরশে আজিমের মালিক।

যেই তল্লাটে, যেই দেশে, যেই সম্রাজ্যে সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর প্রেরিত দূতকে নিয়ে কেউ বা কোন গোষ্ঠী কটূক্তি করলে বিনিময়ে তারা পুলিশি প্রোটেকশন পায়, ‘প্রগতিশীল’, ‘প্রথা বিরোধী’ লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পায় কিন্তু সরকার আর সরকার পরিবারের কাউকে নিয়ে সমালোচনা করলে মানুষকে যেতে হয় কারাগারে, সেই অঞ্চলের আইন, শাসন আর বিচার ব্যবস্থা সামগ্রিক ভাবে যে কোন আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত সেটা বোঝার জন্য খুব তাকলিফ পোহানোর কথা নয়।

আল্লাহ সুবহান ওয়া তায়ালা হাশরের ময়দান কেন তৈরি করবেন সেটার একটা প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায় এই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকালেই। কিছু বিচার আর ফয়সালা সেখানেই হওয়া দরকার। সত্যিকারের রাজাকার কারা সেটা সবাই চিনতে পারবে তখন। 

আর শাহাবাগের গতরাতের ‘আনন্দ মিছিল’ আর ‘লোকে লোকারণ্য’ কিছুই প্রমাণ করেনা আসলে। শাহাবাগ নিয়ে আমার মজার উপলব্ধিটা পড়তে পারেন এখানে, যদি রুচি হয় আর কী। :) (http://goo.gl/gfBlm1)

সবাইকে ফযরের শুভেচ্ছা।

হ্যামেলিনের ইঁদুরঃ সত্য বনাম হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতি

আমার পুরো লেখাটার ফাইন্ডিংস আসলে এই, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে যেই আচার-পার্বণগুলোকে হাজার বছরের বাঙ্গালি সংস্কৃতির অংশ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা একেবারেই প্রতারনামূলক এবং শঠতাপুর্ন। সম্রাট আকবর প্রবর্তিত বাংলা সনের সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। ঘটা করে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সংস্কৃতির বয়স পঞ্চাশ বছরেরও কম। এই ব্যাপারগুলো বিস্তারিত জানার আগ্রহ থাকলে ধৈর্য নিয়ে পুরো লেখাটা পড়বেন।

Wednesday, March 25, 2015

বন্যান্টির সমীপে

এক.

আন্টি, আমি আমার এই দীর্ঘ জীবনে কোন মাদ্রাসায় রামদা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোন ‘কোপা-কুপি’ দেখিনি, এমন ঘটনা শুনিওনি। না দেখেছি সেখানে গান দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হওয়া আর কারো আহত হওয়া। যা দেখেছি তা হচ্ছে মুক্ত চিন্তার আধার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুই দলের মধ্যে গণ্ডগোল; হাত-পা হারিয়ে খোঁড়া-কানা-নুলো হয়ে বসে থাকা নয়ত একেবারেই ইহ জগত ত্যাগ করা।
দ্যা আইরনি ইয দ্যাট, প্রথমদেরকেই কেন যেন জঙ্গি বলা হয়। অবশ্য জঙ্গ বা যুদ্ধ করা তো মানুষেরই সাজে; শৃগাল-কুকুরের মধ্যে তো যুদ্ধ হয়না। যেটা হয় সেটা কামড়াকামড়ি।

দুই.

কালেভদ্রে পত্রিকার পাতায় যখন দেখি, “পড়া না পারায় মাদ্রাসা ছাত্রকে বেদম প্রহার আর নির্যাতন”, আমি তখন এক চিলতে মুচকি হাসি দিয়েই অন্য খবরে মনযোগ দেই।

কেন? সেটা বলার আগে আন্টি আপনাকে একটা কাহিনী বলি। কাহিনীটা ফেইসবুকের কোন ভাইয়ের পোস্ট থেকে দেখেছিলাম।

প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে এক শাইখকে এলাকার কিছু মানুষ বললেন,

‘শাইখ, আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবকে মসজিদে ঢোকার সময় বাম পা দিয়ে ঢুকতে দেখেছি। উনাকে কি ইমাম হিসেবে রাখা যাবে?’

কথা শুনে শাইখ বললেন, ‘এই যদি কারন হয় তবে সেই ইমাম সাহবেকে অবশ্যই রাখা উচিত, আরও বেশি করে রাখা উচিত।’

বুদ্ধিমান শাইখ বুঝতে পেরেছিলেন, ইমাম সাহেবকে তাড়ানোর জন্য মানুষগুলো একটা অজুহাত খুঁজছিল। সে কারনে ইমাম সাহেবের কোন একটা দোষ বের করার জন্য একবারে ওঁত পেতে রয়েছিল তারা। আর কিছুই না পেয়ে শেষমেশ এই বাম পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার ঘটনাটাই নিয়ে আসে।

মোর অর লেস কাহিনীটা এমনই ছিল।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা শেখানোর জন্য যেই প্রতিষ্ঠানগুলো আছে না – স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়, এগুলোতে পড়াশোনার আড়ালে সংগঠিত ছাত্র-ছাত্রীর স্ক্যান্ডাল, ছাত্রী-শিক্ষক স্ক্যান্ডাল, ড্রাগস, আর্মস ডিলিং ইত্যাদি অপরাধের এত লম্বা ফিরিস্তি যে কাগুজেওয়ালারা কোন কূল পায়না, বিরক্ত হয়ে মানুষও সেগুলো আর গিলেনা। বিমুখ হয়ে তারা ওঁত পেতে থাকে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে। ছাত্র পেটানোর মত দুই-একটা যা পাবে সেটাই তাদের লাভ।

তিন.

আমাদের বিযনেস স্টাডিযের শিক্ষকরা আমাদের শেখায় কীভাবে কর্পোরেট দুনিয়ার রথি-মহারথীদের সাথে লিংক করা যায়, নেটওয়ার্ক মেইন্টেইন করা যায় নিজেদের সুন্দর আর ব্রাইট একটা ফিউচারের জন্য। কিন্তু সব রিসোর্স মুঠিতে নিয়ে মাথার ওপর কুর্সিতে যিনি আছেন, তাঁর সাথে যে কীভাবে লিংক করা যায় সেটা আমরা শিখতে পারিনা কখনো।

এটা আবার শেখায় আপনার অপছন্দনীয় সেই মাদ্রাসাগুলোতে। মাদ্রাসার ‘পশ্চাৎপদ’ ছেলে-মেয়েগুলো শিখে নেয় কীভাবে যাবতীয় ভাণ্ডারের মালিক, যাবতীয় কল্যাণ-অকল্যাণের মালিকের সাথে লিংক করা যায় সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।

আর হ্যাঁ, তাঁদের কাছে ভবিষ্যতের সংজ্ঞা লিটারেলি ইনফিনিট, মৃত্যুর পর পর্যন্তও বিস্তৃত।

আন্টি, আপনি আর আপনার প্রতিষ্ঠান কি পারবে আমার  মৃত্যুর পর পর্যন্তও বিস্তৃত সেই ভবিষ্যতকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব নিতে?

চার.

আন্টি আপনি বললেন, “সুরের ধারার এই বাচ্চাগুলো মুক্তচিন্তার শিক্ষা পেয়ে আত্মসম্মানবোধে বেড়ে উঠছে...”

আন্টি, আমার গ্রামে আমাদের শহরের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা আছে, মাদ্রাসার পাশে আছে মসজিদ। অনেক ছোট বেলায় এক জুমু’আতে মাদ্রাসার ছাত্রদের পাশে বসে বয়ান শুনছিলাম। আমার মোটা শরীরের একাংশ নিয়ে এক ছাত্রের পাঞ্জাবীর ওপর ভর দিয়ে বসে রয়েছিলাম। সুন্নাত নামযের জন্য ছেলেটা দাঁড়ানো সময় এক টানে পঁচ করে তাঁর পকেট থেকে ওপরের অংশ ছিঁড়ে যায়। ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া এই আমার দিকে তাকিয়ে সে একটা হাসি দিয়েছিল মাত্র, আর কিছুই বলেনি।

আন্টি, আপনার বাড়িতে যেই ডাল রান্না হয়, সেই ডালে এক বোল পানি মিশিয়ে তাঁদের এক বেলার খাবার হিসেবে খেতে দিলেও বিসমিল্লাহ্‌ বলে তাকদিরে আল্লাহ এইই রেখেছিলেন ভেবে আল্লাহর শুকর-গুঁজার করে খেয়ে নিবে, আত্মসম্মানে লাগাবেনা তাঁরা। ছেলে-মেয়েদের ইংরেজি-ম্যাথের শিক্ষকদের মাসে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানি দিয়ে আর কুরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসার একজন ছাত্রকে পাঁচশ টাকা আপনি ধরিয়ে দেন, সন্তুষ্ট চিত্তে আপনার পাঁচশ টাকা নিবে সে, আত্মসম্মানে লাগাবেনা তাঁরা।

কিন্তু আন্টি, শুধু একবার আপনার কথা বা লেখনি দিয়ে আল্লাহ কিংবা তাঁর রাসূলকে আঘাত করুন, আপনাকে তাঁরা ছাড়বে না কখনো।

তাঁদের সমস্ত সম্মান আর মর্যাদার কেন্দ্রবিন্দু আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল – নিজে নয়।

---------------- --------------- ---------
একটু অন্য ধাঁচে কিছু কথা বলি আন্টি,

পাঁচ.

গেল বছর ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীর করা একটা রেকর্ড আমি কখনো ভুলবোনা। বি এবং ডি ইউনিট থেকে মানুষটা প্রথম স্থান অধিকার করে। কথাটা অনেক ছোট। কিন্তু ঠাণ্ডা মাথায় একবার ভেবে দেখুন আন্টি, কী বললাম আমি - “বি এবং ডি ইউনিট থেকে মানুষটা প্রথম স্থান অধিকার করে”।

আপনার অজানা নয়, বি ইউনিটে পরীক্ষা দেয় বাংলাদেশের মানবিক বিভাগের সমস্ত শিক্ষার্থী। সংখ্যাটা পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজারের মত হবে। অন্যদিকে ঢাবির ডি ইউনিট হল প্রতি আসনে পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বিচারে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট – সাইন্স, বিযনেস স্টাডিয আর আর্টসের সবাই অ্যাপ্লাই করে, তিনগ্রুপের মানুষগুলোই একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে, আসন প্রতি গেল বার ৫৪ জন লড়েছিল।

ও আচ্ছা...আসল কথাটাই  বলিনি আপনাকে। গেলবার এই দুই ইউনিট থেকেই এক মাদ্রাসার ছাত্র প্রথম হয়েছিল। তাঁর নাম আব্দুর রহমান। (http://goo.gl/TLeC7c)

এটা কোন কথা হল! ছোট বেলা থেকেই মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে করে বড় হওয়া এই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর গালে এভাবে কোথাকার কোন মাদ্রাসার এক ছেলে এভাবে চপেটাঘাত করে দিবে, তাও আবার মুক্তিবুদ্ধি চর্চার প্রধান কেন্দ্র সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ করার সময়?

ছয়.

প্রেম করার জন্য ঢাকার অনেক সেইফ কিছু প্লেইসের মধ্যে টিএসসি একটা। এখানে ভেতরের মানুষ যেমন আছে, আছে বাইরের মানুষও। ঢাকার বিভিন্ন আনাচে-কানাচে থেকে বাবুগুলো তার বাবুদের নিয়ে এখানে চলে আসে।

এত এত বছর ধরে সকাল-বিকেল-দিন-দুপুর-রাতে এর পাশ দিয়ে চলাফেরা করলাম, শুশ্রুমণ্ডিত, টুপি-জোব্বা পরিহিত মাদ্রাসার কোন ছাত্রকে দেখলামনা বুরকাওয়ালী-হিজাবি কোন মেয়ের সাথে। আচ্ছা আন্টি, এই মাদ্রাসার ছেলে-মেয়ে গুলো কি প্রেম করতে শিখেনি? এতো ব্যাকডেটেড হলে কি হয়? দুনিয়ার সাথে খাপ খাইয়ে চলবে কিভাবে? স্যারের তোমরা যারা কলাম পড়েনি?

“যে বয়সে তাদের মুক্তচিন্তা শেখার কথা, গান গাওয়ার কথা, নাটক করার কথা, আদর্শ নিয়ে ভাবালুতায় ডুবে যাওয়ার কথা, সেই সময় তারা ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতে শেখে, সাম্প্রদায়িক হতে শেখে, ধর্মান্ধ হতে শেখে। যে বয়সে ছেলে আর মেয়ের ভেতর সহজ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শেখে”।

তারা মনে হয় বিয়ে করা বউয়ের সাথে বাড়িতেই প্রেম করে, গার্লফ্রেইন্ডের সাথে প্রেম করেনা। আর এই কারনে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক লস হচ্ছে। গার্লফ্রেইন্ড নিয়ে রেস্টুরেন্ট না খাওয়ার কারনে যা বিক্রি হবার কথা ছিল তার চেয়ে কম হচ্ছে, ব্যবসা কম হচ্ছে। ব্যবসা কম হচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর, হোটেল মালিকদের, মেডিসিনের। আমি এগুলো খুলে আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবোনা, আমার লজ্জা করবে। এই লসগুলো বুঝতে পারি বিযনেসের ওপর গ্র্যাজুয়েটেড আমরা এই কর্পোরেট স্লেইভরা, তারা বুঝবেনা তাদের কারনে জিডিপি কত কমে যাচ্ছে।

সাত.

মানুষ মরণশীল। আমি-আপনিও একদিন মারা যাব। আচ্ছা আন্টি, আপনি তো মুসলিম, তাইনা? আপনার মৃত্যুর পর আপনার কানের পাশে কোন শিল্পী কোন রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবে, কারা কারা সুরের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করবে, সেটা কী ঠিক করে দিয়েছেন?

-বন্যান্টির সমীপে (http://goo.gl/XZfLTa)

Friday, February 27, 2015

অভিজিৎ রায়ের মরন ও সাধারন মানুষের মরন

তবে কি চারপাশের এত মৃত্যু - ঝলসে যাওয়া মৃত্যু, পুড়ে যাওয়া মৃত্যু, লঞ্চ ডুবিতে মৃত্যু, ক্রস ফায়ারে মৃত্যু, এই সবই এক অভিজিৎএর মৃত্যুর সামনে তুচ্ছ?

লজ্জা হয় মানুষের উর্দি গায়ে জড়ানো এই প্রাণীগুলোর মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করে...

কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় বলি ওই মানুষগুলো কেউ ‘মুক্তমনা’ ছিলনা, অন্যের বিশ্বাসকে কুঠারাঘাত করে কিছু বলনে ওয়ালা ছিলনা। তাই  তাদের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পেরেছি, অভিজিৎ এর নয়।

সুশীলদের একটা মিথ্যা কথা ধরা পরে গেল। ওদের কাছে সব মানুষই  নাকি সমান। জাতপাত কি নাস্তিকতায় আছে নাকি, জাতপাত তো ধর্মে আছে...ধর্মে।

কিন্তু তাই যদি হয় তবে ম্যাতকার শুধু আজ হবে কেন?

এই প্রসঙ্গে একটা কৌতুক মনে পড়ল। শেয়ার করার ইচ্ছে সামলা পারলাম নাঃ

‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ড্রোন হামলায়  ১০০ মানুষ আর ১ টা ছাগল হত্যা করা হবে।’

‘ছাগল??...ছাগল কেন?’

(স্মিত হেসে), ‘আমি আগেই জানতাম... ওই ১০০ জন মানুষের কথাটা তোমার গায়েই লাগবেনা।’

Monday, February 23, 2015

আপনার বাবা-মা’ই আপনাকে ভালবাসে আপনার জন্মেরও ঠিক নয়-দশ মাস আগে থেকে

কত ধরব? বিশ থেকে পঁচিশ বছর ধরি?

বিশ থেকে পঁচিশ বছর ধরে যে বাবা-মা আপনাকে এত আদর দিয়ে যত্ন করে কোলেপিঠে নিয়ে বড় করে তুলেছেন, সেই বাবা-মায়ের সাথেই আপনি যখন হরহামেশাই মিথ্যে কথা বলেন শুধু একটা ‘রিলেশানে’ থাকা কোন এক ‘জিএফ/বিএফ’ এর কারনে, আপনার সেই ‘গর্দভ’ জিএফ/বিএফ কি একটা বারের জন্যেও এটা ভাবেনা যে তার প্রতি আপনার ‘সততার’ ভিত্তি
কী তাহলে?


একটা কথা মনে রাখবেন, পৃথিবীর সবাই আপনাকে ভালবাসতে পারবে জোরজার করে হলেও আপনার বয়স যত, ঠিক তত বছর ধরে। কিন্তু শুধু আপনার বাবা-মা’ই আপনাকে ভালবাসে আপনার জন্মেরও ঠিক নয়-দশ মাস আগে থেকে।

আপনি আপনার বাবা-মায়ের সাথে যেমন, আপনার সন্তানগুলোও আপনার সাথে ঠিক তেমন - মুখস্ত করে ফেলুন কথাটা। ইট ডায’ন্ট মিন দ্যাট আপনি খারাপ মানে আপনার বাবা-মাও খারাপ ছিল তাঁদের সময়কালে। কারন ‘ফার্স্ট টাইম’ বলে একটা কথা সবসময়ই আছে, এই ক্ষেত্রে যেটা আপনি, আনফরচুন্যাটলি।

Thursday, February 19, 2015

বোমার বৃষ্টি

হেল্পার বললেন, ‘জানালাগুলা লাগায়া দেন তাত্তাড়ি।’

প্যালেস্টাইনীয়ানদের কথা খুব মনে পড়ছিল তখন।

আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়া দেখে দেখে আমরা বড় হয়েছি। ওরা বড় হয়েছে আকাশ থেকে বোমা পড়া দেখে দেখে।
জুতো-জামায় কাদা লেগে যাওয়া ছাড়া অনেক বড় কোন ক্ষতি আমাদের হয়না। কিন্তু ওদের দেখতে হয় পাশে দাঁড়ানো খেলার সাথী, বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনের হুট করে হয়ে যাওয়া ছিন্নভিন্ন দেহ। সর্বক্ষণ আতংকে থাকতে হয় – এই বুঝি পা দিয়ে দিলাম পুঁতে রাখা কোন বোমার ওপর আর আমিও ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলাম।

চিন্তা করে দেখুন তো একবার, স্ট্রেসের কতবড় বোঝা মাথায় নিয়ে দিনপাতি করতে হয় তাঁদের?

আমাদের কথা ভিন্ন। আক্ষরিক অর্থে সোনার চামচ মুখে নিয়ে হয়ত জন্মাইনা। কিন্তু যে আদর আর যত্নে বড় হই সেটার কাছে সোনার চামচের উদাহরণটা একদম একটা ‘কিছুইনা’। ভীরু আর দুর্বল হিসেবে বড় হয়ে উঠি। ফলে বাস ভাঙ্গার এক আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করি, পেট্রোল বোমায় সামনাসামনি কারও মৃত্যু না দেখলেও অদেখা এক আতংকে সারাটা পথ তটস্থ থাকি। প্যালেস্টাইনীয়ানদের কাছে এগুলো হয়ত পটকা ফাটানোর মতই কিছু।

আমি অন্যদের কথা জানিনা। আমার কথাই বললাম।

Tuesday, February 17, 2015

বিশ্বাস বনাম প্রমান

বিশ্বাস আর প্রমান, দুটোর অবস্থান দুই প্রান্তে। একটা জিনিষের অস্তিত্ব থাকতে পারে, আবার না ও থাকতে পারে, কিন্তু আমি সেটার অস্তিত্ব কে সত্য বলে মেনে নিচ্ছি - এটাই বিশ্বাস।

তবে একটা ব্যাপার 'বাস্তব' হিসেবে প্রমানিত হয়ে গেলে বিশ্বাস সেখানে অর্থহীন। কারন যা প্রমানিত, তা সত্য, সর্বজনীন ভাবেই সত্য। আর সত্য কোন ব্যাপারকে 'বিশ্বাস' করার কিছু নেই আসলে। দুই যোগ দুই চার হয়, এটা সত্য, প্রমানিত;
বিশ্বাসের কিছু না।

এই কারনে, একজন মুসলিমের কাছে মৃত্যু পরবর্তী জীবন, কিয়ামাত, হাশর, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি ব্যাপার গুলোও 'বৈজ্ঞানিক' উপায়ে কখনো প্রমানিত হওয়ার কিছু নয়। ঈমান এনে মুসলিম হতে চাইলে, মুসলিম হিসেবে থাকতে চাইলে এগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করতেই হবে। এই ব্যাপারগুলোকেও যদি 'প্রমান' করতে চান আর সত্য হিসেবে প্রমান করতে পারেন, তাহলে এগুলো ঈমান আনার শর্ত হিসেবে 'বিশ্বাস'  করার মত কিছু হলোনা। তখন সবাই সত্য বলে মেনে নিবে ব্যাপারগুলো।

আমাদের চোখ, কান, নাক, হাত ইত্যাদি কোন কিছু দিয়েই আল্লাহ সুবহান ওয়া তায়ালাকে আজ পর্যন্ত 'অনুভব' করতে পারিনি। কেন তিনি এমন করছেন? কেন তিনি 'দেখা' দিচ্ছেন না আমাদের?

তাঁকে আমরা না দেখেই মানবো, তাঁর দাসত্ব করবো যতদিন বেঁচে থাকবো, এটাই তিনি চান। তাঁকে দেখতে পেলে পৃথিবীটা তখন আর পরীক্ষাগার হিসেবে থাকতো না। সবাই তখন তাঁকে  সত্য বলে মেনে নিত।

আমাদের এই বিশ্বাস গুলোর যে কোন ভিত্তি নেই, তা কিন্তু নয়। সর্বকালের সবচেয়ে সত্যবাদী মানুষটি দেড় হাজার বছর আগে নিজে প্রত্যয়ন করে গেছেন ব্যাপারগুলো। তাঁকে মিথ্যাবাদী বলার মত উন্মাদ কেউ ছিলনা তখন। তাঁকে জাদুকর বলা হয়েছিল সর্বসাকুল্যে, মিথ্যুক নয়।

Friday, February 13, 2015

‘সারাদিন এত বড়বড় গুনাহ করি কোন খবর নাই, এই একটা দুটো করলে কী হয়ে যাবে আর?

আপনার কাছে কিছু টাকা আছে। এই ধরুন...অঙ্কটা দশ হাজারের মত?

দশ হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা হারিয়ে গেল, চুরি হয়ে গেল বা ছিনতাই হয়ে গেল। সোজা কথায় – নাই হয়ে গেল।

আপনি বাকী টাকা নিয়ে কী করবেন?


‘আমার এতগুলো টাকা হারিয়ে গেল, আমি বাকী টাকাটা রেখে কী করব? এগুলোকেও আমি হারিয়ে ফেলি, চোর বা ছিনতাইকারীকে দিয়ে দেই’ – এই কি ভাববেন?

না। কখনোই না।

যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। আপনার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে বাকী টাকাকে পুঁজি করে কীভাবে এর সদ্ব্যবহার করা যায়, Maximum Utiliy অর্জন করা যায়, বাকী টাকাও যেন হারিয়ে না যায়।

এতখানি পর্যন্ত তো আপনার দ্বিমত নেই?

তাহলে এখন বলুন তো, আপনাকে যখন কেউ বলে যে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা গুনাহের কাছ, হারাম রিলেশানশীপে যাওয়া গুনাহের কাজ, গীবত করা গুনাহের কাজ, কোন বিজাতীয় দিবস পালন করা গুনাহের কাজ, সুদী ব্যাংকে কাজ করা গুনাহের কাজ – আপনি তখন কেন বলেন, ‘সারাদিন এত বড়বড় গুনাহ করি কোন খবর নাই, এই একটা দুটো করলে কী হয়ে যাবে আর?’

“সারাদিন এত বড়বড় গুনাহ” করার কারনে যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে, যা হারানোর তা হারিয়েই ফেলেছেন। কিন্তু বাকী যা পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, সেটাও কি আপনি নষ্ট করে ফেলতে চাইছেন? বাকী যা গুনাহ থেকে বাঁচার সুযোগ ছিল, সেই গুনাহ গুলোও কি আপনাকে এখন করে ফেলতে হবে?

বড়বড় গুনাহ করলেই যে ছোট ছোট গুনাহ করতে হবে, করা যায় – এই চিন্তা আপনার মাথায় ঢুকল কীভাবে?

এত বড়বড় গুনাহ করেছেন বলেই না বাকী গুনাহের কাজ করা আরও আগে থামিয়ে দেয়া ফার্য ছিল আপনার।  

আপনার উত্তরটা এখানে একেবারে ‘লকড’ করে দেয়ার জন্যেই আমার কথার শুরুতে টাকার উদাহরণ অবতারনা করলাম। দুনিয়ার কিছু সম্পদ হারিয়ে গেলেও বাকী সম্পদকে পুঁজি করে আমরা সামনে এগিয়ে যাই, সেগুলোকেও না হারিয়ে ফেলার আপ্রান চেষ্টা করি।

আর আখিরাতের সম্পদের জন্য এই অবস্থা আমাদের?

Saturday, February 7, 2015

'লাগবেনা আমার এই সন্তান। আপনি একে আমার সাথী পতিতাকে দিয়ে দিন।’

বাইবেলের 1 Kings 3:16-28-এ বর্নিত কাহিনীটা কমবেশি সবাই জানি।

দুজন পতিতা একই ঘরে থাকত। দুজনের একই সময় সন্তান হল।

এক রাতে হল কী, এক পতিতা ঘুমের ঘোরে তার সন্তানকে চাপা দিয়ে দেয়। দম বন্ধ হয়ে মারা যায় তার সন্তানটা।
কুটিল পতিতাটা নিজের মৃত সন্তানটাকে পাশের বিছানায় থাকা পতিতার সন্তানের সাথে বদল করে নেয়।

সকাল বেলা ঘুম ভেঙ্গে উঠার পর দ্বিতীয় পতিতা আবিষ্কার করে, তার সন্তানটা রাতে মারা গেছে। কিন্তু কিছুতেই সে বিশ্বাস করতে পারছিলনা এটা তার সন্তান। সাথে থাকা পতিতার কোলে নিজের সন্তানকে চিনতে পেরে সে যা বোঝার সবই বুঝে নিল।

জীবিত সন্তানটা কার  – তা নিয়ে দুই পতিতার মধ্যে তর্ক শুরু হয়ে গেল। সে বলে এর, ও বলে এর।

অগাত্যা, মীমাংসা করার জন্য তারা দুজনেই কিং সলোমনের দরবারে গেল।

সবকিছু শুনে কিং সলোমন বললেন, ‘আমাকে একটা তলোয়ার দাও। আমি এই সন্তানটাকে কেটে দুইভাগ করে দুজনকে দিব। এটাই হবে ন্যায় বিচার।’

কথাটা শুনে আসল মা বললেন, ‘দোহাই লাগে এই কাজ করবেন না। লাগবেনা আমার এই সন্তান। আপনি একে আমার সাথী পতিতাকে দিয়ে দিন।’

আর অন্য পতিতা বলল, ‘জ্বি, একে কেটে দুইভাগ করে প্রত্যেককেই একভাগ দিন।’
------------------------

কিন্তু আমাদের দেশের দল দুটোর সমস্যা হয়ে গেছে, তারা sacrifice করতে জানেনা। প্রত্যেকেই মনে করে নিজের হাতে ক্ষমতা আসলেই দেশের উন্নয়ন হবে শুধু। অন্য দলটা শুধু লুটপাট করবে।

দেশকে যদি তারা এতই পছন্দ করত, দেশের মানুষগুলোর জন্য মন এতই যদি কাঁদত, দুই দলের কারনে সৃষ্ট বর্তমানের এই নৈরাজ্য দেখে এক দল অন্যদলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে বলত, ‘তোরাই চালা দেশটা। কিন্তু মানুষগুলোকে কষ্ট দিস না...’

দেশ চালাবে কে - দুই দলের এই টাগ অফ ওয়ারের খেলায় বলি হয়ে দেশটা দুইভাগ হচ্ছেনা, পিস পিস হয়ে যাচ্ছে।

হাজার বছর আগের পতিতা গুলোও অনেক ভাল ছিল।